নাছির উদ্দিন সোহেল, মহেশখালী:
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের চালিয়াতলী জুমপাড়া এলাকায় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকটি বসতঘর মাটিচাপা পড়ে এবং নারী-শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে আকস্মিক এ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সে সময় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কয়েকজন ঘরের ভেতরে আটকা পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে পাহাড়ধসের বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে জরুরি ঘোষণা দেওয়া হলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং মাটিচাপা পড়া ঘরগুলো থেকে আটকে পড়া নারী, শিশু ও পুরুষদের জীবিত উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও গুরুতর আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজন নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় গভীর রাতে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে বসতবাড়ির ওপর পড়ে। এতে কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়রা পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, মৌসুমি ভারী বর্ষণের কারণে মহেশখালীর বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সিপিপি (CPP) এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে দেরি না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
